Powered by Blogger.

Promote Your Facebook Profile Get Auto likes

 
likerspk
likerspk

How to get Auto likes On Facebook Post,Status?

How To get Auto  Followers On facebook ?

1) To Get Auto likes Visit www.Likerspk.com

2)Go to Step 1 Allow App To Get AccessToken
3) Goto Step 2  and Click Link And copy Access Token
4)Access Token Will Be Something like this --> CAAAACZAVC6ygBAAuaeb
MTlHa21ezadLGUFdMQ79LtZBiu7q0ZAXJSdzoX3Q4dPPcayf690nrezyMbzubIIZB4wZBjHoOVLwe9s8cZAkZBOP1Kjzbznc8TSlJYBgbvoBw67o6PZCu6oUplRxVX0HgpgYfZBxVtzQVzBqBbuCKpjllyUE2Xb089gs8SwOQH0ZCQF7jWf730J3jOKD6ZBu4hZCERDyi
5) And Paste Access Token In likerspk.com to Login And click Submit
6) Logged In
Use Menu for Likes Comments ETC
Get Comments on your Post or Status etc
By just Posting Post id and Comment then click submit .
Done
you can also post to all pages you liked.
Hubbla, Hublaa Likes , Like Lo . Mg likes Free liker likes for facebook free facebook likes 2014 likes,Addmefast Free likes Free of cost likes buy likes.Facebook fanpagelikers


এখান থেকেও ডাউনলোড করতে পারবেন ( 2 )

Quran Software "Zekr" Portable (38 languages Translation)

আসসালামু আলাইকুম।
আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম আল কুরআন সফ্টওয়্যার “জিকর” এর পোর্টেবল ভার্সন। আপনাদেরকে কষ্ট করে ইনস্টল দিতে হবে না। শুধু মাত্র ডাউনলোড করে আপনার কম্পিউটারে Extract করে নিলেই চলবে।


প্রথমে জিকর সম্পর্কে জানুনঃ জিকর সফটওয়ারটি http://zekr.org থেকে প্রকাশিত একটি কুরআন স্ট্যাডি সফটওয়্যার।
এর মাধ্যমে আপনি পবিত্র কুরআন খুব সুন্দরভাবে পড়তে পারবেন এবং আল কুরআনের যে কোন স্থান থেকে শব্দ দিয়ে খুজে তা বের করতে পারবেন।

কম্পিউটারে যা যা থাকতে হবেঃ
  • Windows 2000, XP, Vista/7.
  • Java (JRE) 1.5.0 or newer.
  • Font: Arial, Solaiman lipi.
নিচের ছবিতে ক্লিক করে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিন।


আরবী বাংলা পোর্টেবল পেতে এখানে ক্লিক করুন।
বাংলা দেখার জন্য প্রথমে Solaimanlipi ফন্টটি আপনার কম্পিউটারের C:\windows\fonts ফোল্ডারে ইনস্টল করতে হবে। তারপর জিকর সফটওয়্যারটি খুলে
Tool ======> Option ========> View   [See Screen shoot below]


trans_bn_fontName এর ঘরে ‍SolaimanLipi টাইপ করুন, তারপর একটি কমা (,) দিন যেমন স্ক্রিণশটে দেখানো হয়েছে। Apply করে OK করুন। পেয়ে গেলেন ক্রিস্টাল বাংলা!


"জিকর সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন এখানে"

দ্বীনের প্রতি বিদ্রূপ ও তার পবিত্রতাহানি করার হুকুম

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-


লেখক: সালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান | অনুবাদক: মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
 
দ্বীনের প্রতি বিদ্রূপকারী মুরতাদ হয়ে যায় এবং পুরোপুরি দ্বীন ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
قُلْ أَبِاللَّهِ وَآَيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ  لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ 
‘বলুন (মুহাম্মাদ), তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর নিদর্শনাবলীর সাথে এবং তাঁর রাসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছল-ছুতা দেখিয়ো না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফুরী করেছ।’ [১]
এ আয়াত প্রমাণ বহন করে যে, আল্লাহর সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা কুফুরী, রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ কুফুরী। অতএব যে ব্যক্তি এ বিষয়গুলোর কোন একটির প্রতি বিদ্রূপ করে, সে সবগুলোর প্রতি বিদ্রূপকারী হিসাবে গণ্য হবে। আর সে যুগের মুনাফেকদের পক্ষ থেকে যা ঘটেছিল তা এই যে, তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবাগণের প্রতি বিদ্রূপ করত। তখনই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। অতএব এ বিষয়গুলোর প্রতি বিদ্রূপ করা একটি অন্যটির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সুতরাং যারা আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি ঠাট্টা করে এবং আল্লাহ তাআলা ব্যতীত মৃত লোকদের কাছে দোয়া করাকে বড় মনে করে, যখন তাদেরকে তাওহীদের দিকে আহ্বান করা হয় এবং শিরক থেকে নিষেধ করা হয়, তখন তারা তৎ প্রতি বিদ্রূপ করতে থাকে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِذَا رَأَوْكَ إِنْ يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي بَعَثَ اللَّهُ رَسُولًا  إِنْ كَادَ لَيُضِلُّنَا عَنْ آَلِهَتِنَا لَوْلَا أَنْ صَبَرْنَا عَلَيْهَا  الفرقان
‘তারা যখন আপনাকে দেখে তখন আপনাকে কেবল বিদ্রূপের পাত্ররূপে গ্রহণ করে এবং বলে এই কি সে – যাকে আল্লাহ রাসূল করে প্রেরণ করেছেন? সে তো আমাদেরকে আমাদের উপাস্যদের কাছ থেকে দূরে সরিয়েই দিত, যদি আমরা তাদেরকে আঁকড়ে ধরে না থাকতাম।’ [২]
তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাদেরকে শিরক থেকে নিষেধ করেছিলেন, তারা তাঁকে বিদ্রূপ করতে থাকে। প্রাচীন যুগ থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত মুশরিকগণ নবীগণের দোষত্রুটি বর্ণনা করে আসছে এবং যখনই তাঁরা তাদেরকে তাওহীদের দাওয়াত দেন তাঁদেরকে তারা নির্বোধ, ভ্রষ্ট ও পাগল বলে অভিহিত করে। কেননা তাদের অন্তরে রয়েছে শিরকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। অনুরূপভাবে দেখা যায় – মুশরিকদের সাথে যাদের সাদৃশ্য রয়েছে, যখনই তারা কাউকে তাওহীদের প্রতি আহ্বান করতে দেখে, নিজেদের অন্তরে শিরক থাকায় তারা তৎ পতি বিদ্রূপ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ 
আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যান্যদেরকে তাঁর সমক স্থির করে। আল্লাহকে ভালোবাসার মতই তারা তাদেরকে ভাল-বাসে। [৩]
অতএব কেউ যদি আল্লাহকে ভালোবাসার ন্যায় সৃষ্টি জগতের কোন কিছুকে ভালোবেসে থাকে, তাহলে সে হবে মুশরিক। আল্লাহর ওয়াস্তে কাউকে ভালোবাসা এবং আল্লাহর সাথে কাউকে ভালোবাসা এত দু ভয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা উচিত। এজন্য যারা কবর ও মাজারকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে তাদেরকে দেখতে পাবেন যে, তারা আল্লাহর একত্ববাদ ও ইবাদতের প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে থাকে এবং আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তারা শাফায়াতকারী রূপে গ্রহণ করেছে, তাদের প্রতি খুবই সম্মান প্রদর্শন করে। তাদের যে কেউ আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম খেতে পারে কিন্তু স্বীয় পীর ও শায়খের নামে মিথ্যা কসম খাওয়ার সাহস কারো নাই। এদের অনেকেই মনে করে যে, পীর ও শায়খের কাছে সাহায্য চাওয়া – চাই তা তার কবরে পাশে হোক কিংবা অন্য কোথাও – প্রত্যুষে মসজিদে আল্লাহর কাছে দোয়া চাওয়ার চেয়েও তাদের জন্য বেশি উপকারী। যারা তাদের পথ ছেড়ে তাওহীদের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাদের প্রতি তারা উপহাস করে। তাদের অনেকেই মসজিদ ভেঙে দরগাহ বানায়। এসব কিছুই আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি উপহাস এবং শিরকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বই আর কিছু নয়। [৪] কবরপন্থীদের মধ্যে আজকাল এ ধরনের ঘটনা প্রচুর ঘটে থাকে। ঠাট্টা-বিদ্রূপ দু’ভাগে বিভক্ত:
এক. স্পষ্ট বিদ্রূপ 
তা এমন বিদ্রূপ যে ব্যাপারে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। যেমন তাদের এমন কথা বলা যে, ‘‘আমাদের এ সকল ক্বারীদের ন্যায় এত বেশি পেটুক, এত বড় মিথ্যাবাদী ও যুদ্ধের সময় এত ভীরু লোক আমরা দেখি নাই।’’ কিংবা অনুরূপ আরো কোন কথা যা বিদ্রূপকারীরা সাধারণত বলে থাকে। যেমন কারো এমন কথা যে, ‘‘তোমাদের এই ধর্ম পঞ্চম ধর্ম’’ অথবা বলা যে, ‘‘তোমাদের ধর্ম বানোয়াট’’।
একই ভাবে সৎকাজের আদেশ দাতা ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধকারী কাউকে দেখে উপহাসমূলক এমন কথা বলা যে,‘‘তোমাদের কাছে তো দ্বীনের লোকজন এসে গেছে’’। এ রকম আরো অসংখ্য কথাবার্তা যা গণনা করা কষ্টসাধ্য। এসব কথাবার্তা সে সব লোকদের কথার চেয়েও ভয়াবহ, যাদের ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল।
দুই: অস্পষ্ট বিদ্রূপ
এ হল এমন সমুদ্র সদৃশ যা কোন কূল-কিনারা নেই। যেমন চোখ টেপা, জিহ্বা বের করা, ঠোঁট উল্টানো, আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতের সময় কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত পড়ার সময় অথবা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার সময় হাত দিয়ে ইশারা করা [৫] অনুরূপ ভাবে এ ধরনের কথাও বলা যে ‘‘মানব-রচিত আইন অনুযায়ী শাসন পরিচালনা মানুষের জন্য ইসলামী আইন অনুযায়ী শাসন পরিচালনার চেয়ে উত্তম’’ আর যারা তাওহীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে এবং কবর পূজা ও ব্যক্তিপূজাকে বাধা দিচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যে বলা যে, ‘‘এরা মৌলবাদী’’ অথবা ‘‘এরা মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়’’ অথবা ‘‘ এরা ওহাবী’’ অথবা ‘‘এরা পঞ্চম মাজহাবের অনুসারী’’। এ ধরনের আরো অনেক অনেক কথাবার্তা রয়েছে যা প্রকারন্তরে দ্বীন ও দ্বীনদারদের প্রতি গালি এবং বিশুদ্ধ আক্বীদার প্রতি বিদ্রূপ হিসাবে পরিচিত। লা হাওলা ওয়া কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
এসব বিদ্রূপ ও উপহাসের মধ্যে রয়েছে সেই ব্যক্তির প্রতি বিদ্রূপ, যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন সুন্নাহকে শক্ত ভাবে মেনে চলে। তারা দাঁড়ি রাখার প্রতি উপহাস করে বলে : দ্বীন-ধর্ম তো চুলের মধ্যে নেই, ইত্যাদি আরো নানারকম বিশ্রী কথা।
সমাপ্ত
[১] সূরা তাওবা, ৬৫-৬৬ [২] ফুরক্বান, ৪১-৪২ [৩] সূরা বাকারা, ১৬৫ [৪] ফাতওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া, ১৫তম খন্ড ৪৮-৪৯ [৫] মাজমুউত তাওহীদ, ৪০৯
 সূত্রঃ ইসলাম হাউজ

ঘুমানো এবং জাগ্রত হওয়ার আদব

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

লিখেছেনঃ  আখতারুজ্জামান মুহাম্মদ সুলাইমান   

ঘুম আল্লাহ তাআলার একটি বিশাল নেয়ামত , এর মাধ্যমে তিনি নিজ বান্দাদের উপর বিরাট অনুগ্রহ করেছেন। এবং তাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। আর নেয়ামতের দাবি হল শুকরিয়া আদায় করা তথা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন : 

وَمِنْ رَحْمَتِهِ جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لِتَسْكُنُوا فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ৭৩ (القصص ৭৩)

তিনিই স্বীয় রহমতে তোমাদের জন্যে রাত ও দিন করেছেন যাতে তোমরা রাত্রে বিশ্রাম গ্রহণ কর ও তার অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।  [আল কাসাস : ৭৩]

وقال سبحانه وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا.  النبأ : ৯

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী। [আন নাবা : ৯]
দিনের ক্লান্তিকর চলাফেরার পর রাত্রে শরীরের প্রশান্তি শরীর সুস্থ থাকাকে সাহায্য করে।অনুরূপ ভাবে শরীরের বর্ধন এবং কর্ম চাঞ্চল্যতেও সাহায্য করে। যাতে করে ঐ দায়িত্ব পালন করতে পারে যার জন্য আল্লাহ তাআলা তাকে সৃষ্টি করেছেন।

মানুষের বেঁচে থাকার জন্যে যা কিছু অতি জরুরী ঘুম তার অন্যতম। মুমিন বান্দা যদি ঘুমের মাধ্যমে দেহ ও মনকে আরাম দেওয়ার নিয়ত করে , যাতে করে সে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের বিষয়ে আরো দৃঢ় হতে পারে। অতঃপর ঘুমের সমস্ত সুন্নত ও শরয়ী আদব পরিপূর্ণ রূপে পালন করার চেষ্টা করে , তবে তার ঘুম এবাদত হিসাবে পরিগণিত হবে এবং সে পুণ্য লাভ করবে।

সাহাবী মুআয বিন জাবাল রা. বলতেন :―

أما أنا فأنام وأقوم، فأحتسب نومتي كما أحتسب قومتي.البخاري (৩৯৯৮)

আর আমি (রাতে) ঘুমাই এবং জাগ্রত হয়ে সালাত আদায় করি, জাগ্রত থেকে সালাত আদায়ের মাধ্যমে যে ভাবে ছাওয়াবের আশা করি ঠিক তেমনি করে ঘুমানোর মাধ্যমেও ছাওয়াবের আশা করি । [বোখারি : ৩৯৯৮]

ইবনে হাজার র. বলেন এর অর্থ হল: 

قال ابن حجر رحمه اللّه: معناه أنه يطلب الثواب في الراحة كما يطلبه في التعب،

তিনি আরামের ভিতর পুণ্য আশা করতেন যেমন কষ্টের ভিতর আশা করতেন।

কেননা, আরামের উদ্দেশ্য যদি এবাদত করার জন্য সাহায্য সঞ্চয় করা হয়, তবে সে আরামের দ্বারা পুণ্য হবে। এখানে মুয়ায ইবনে জাবাল রা.-এর জাগ্রত হওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হল রাতের নামায।

ঘুমের কতিপয় আদব এবং বিধান:~

(১) অধিক রাত্রি জাগরণ না করে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া মোস্তাহাব ―
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামাযের পূর্বে ঘুমানো এবং নামাযের পর অহেতুক গল্প-গুজব করাকে খুব অপছন্দ করতেন । [বোখারি : ৫১৪]
কিন্তু ভাল ও নেক কাজের জন্য এশার পরে জাগ্রত থাকাতে কোন ক্ষতি নেই। যেমন মেহমানের সাথে কথা বলা অথবা ইলমী আলোচনা করা অথবা পরিবারকে সময় দেওয়া ইত্যাদি। মোটকথা, যে জাগ্রত থাকা কোন ক্ষতির কারণ হবে না যেমন ফজরের নামায নষ্ট হয়ে যাওয়া, সে জাগ্রত থাকাতে কোন ক্ষতি নেই।
তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপরকারিতা 
  • ক) সুন্নতের অনুসরণ।
  • খ) শরীরকে আরাম দেওয়া, কেননা দিনের ঘুম রাত্রের ঘুমের ঘাটতি পূরণ করতে পারে না।
  • গ) ফজরের নামাযের জন্য খুব সহজে এবং পূর্ণ শক্তি ও চাঞ্চল্যতার সাথে জাগ্রত হওয়া যায়।
  • ঘ) তাহাজ্জুদের নামাযের জন্য শেষ রাতে জাগ্রত হতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য এটি বড় সহায়ক ।

(২) প্রত্যেক মুসলমানকে সব সময় ওযু অবস্থায়ই ঘুমাতে চেষ্টা করা উচিত। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারা ইবনে আযেব রা.-কে বলেছিলেন―

إذا أخذت مضجعك فتوضأ وضوءك للصلاة. مسلم (৪৮৮৪)

যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন নামাযের ওযুর মত ওযু করবে। [মুসলিম : ৪৮৮৪]

(৩) ডানদিকে পাশ ফিরে ঘুমাবে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :― 

ثم أضطجع على شقك الأيمن.

অতঃপর ডান কাত হয়ে ঘুমাও।

(৪) উপুড় হয়ে ঘুমানো মাকরূহ। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :― 

إنها ضجعة يبغضها الله عز وجل.

এটি এমন শয়ন, যাকে আল্লাহ তাআলা খুব অপছন্দ করেন।

(৫) ঘুমানোর সময় হাদীসে বর্ণিত আযকার ও দোয়া থেকে সাধ্যানুযায়ী পড়ার চেষ্টা করবে। যিকির তথা আল্লাহর নাম নেয়া ব্যতীত ঘুমানো মাকরূহ। 
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত―

ومن اضطجع مضجعا لم يذكر الله تعالى فيه إلا كان عليه من الله تِرَة يوم القيامة أبو داود (৪৪০০)

যে ব্যক্তি আল্লাহর যিকির ছাড়া শুয়ে পড়বে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আক্ষেপের বিষয় হবে। [আবু দাউদ : ৪৪০০]

হাদীসে বর্ণিত (ঘুমানোর সময়ের) কিছু দোয়া:~

ক) আয়াতুল কুরসী পড়া। 

عن أبي هريرة قال: وكّلني رسول الله صلى الله عليه وسلم بحفظ زكاة رمضان، فأتاني آت فجعل يحثو من الطعام… وذكر الحديث، وفيه أن هذا الآتي قال له: إذا أويت إلى فراشك فاقرأ آية الكرسي، فإنه لن يزال معك من الله تعالى حافظ، ولا يقربك شيطان حتى تصبح، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: صدقك، وهو كذوب، ذاك شيطان.البخاري (৩০৩৩)

অর্থাৎ আবু হুরাইরা রা. বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রমযানের ফিতরা সংরক্ষণের দায়িত্ব দিলেন। কোন এক আগন্তুক আমার কাছে আসল, এবং অঞ্জলি ভরে খাবার (চুরি) সংগ্রহ করতে লাগল।… এরপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। -তাতে আছে- আগন্তুক তাকে বলল : তুমি যখন তোমার বিছানায় যাবে তো আয়াতুল কুরসী পড়বে, কেননা এর মাধ্যমে সর্বক্ষণ তোমার সাথে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকরী থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে ঘেঁসতে পারবে না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমাকে সত্য বলেছে অথচ সে বড় মিথ্যাবাদী। সে হচ্ছে শয়তান। [বোখারি : ৩০৩৩]

খ) সূরা এখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পড়া। 
আয়েশা রা. বর্ণনা করেন:

أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أوى إلى فراشه- كل ليلة – جمع كفيه ثم نفث فيهما، وقرأ فيهما قل هو الله أحد و قل أعوذ برب الفلق و قل أعوذ برب الناس، ثم مسح بهما ما استطاع من جسده، بدأ بهما على رأسه ووجهه وما أقبل من جسده، يفعل ذلك ثلاث مرات. . الترمذي (৩৩২৪)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রতি রাত্রিতে নিজ বিছানায় যেতেন দুই হাতের কবজি পর্যন্ত একত্রিত করতেন অতঃপর তারমাঝে ফু দিতেন এবং সূরা এখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তেন । অতঃপর দুই হাত যথা সম্ভব সমস্ত শরীরে মলে দিতেন। মাথা ,চেহারা এবং শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। এরূপ পরপর তিনবার করতেন।  [তিরমিজি : ৩৩২৪]

গ) اللهم باسمك أموت وأحيا দোআটি পড়া।
অর্থাৎ হে আল্লাহ আপনার নামে মৃত্যবরণ করলাম এবং আপনার নামেই জীবিত হব।

ঘ) নিম্নোক্ত দোআটি পড়া।

اللهم أسلمت نفسي إليك، وفوّضت أمري إليك، وألجأت ظهري إليك، رغبة ورهبة إليك، لا ملجأ ولا مَنجى منك إلا إليك، آمنت بكتابك الذي أنزلت، ونبيّك الذي أرسلت.البخاري (৫৮৩৬)

অর্থাৎ, হে আল্লাহ আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিয়েছি। আমার বিষয় আপনার কাছে সোপর্দ করেছি। আমার পিঠ আপনার সাহায্যে দিয়েছি আপনার প্রতি আশা এবং ভয় নিয়ে, আশ্রয় নেয়ার ও আপনার শাস্তি থেকে বাঁচার মত জায়গা আপনি ছাড়া আর কেউ নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি এবং আপনার প্রেরিত নবীর প্রতি।    [বোখারি : ৫৮৩৬]

(৬) ঘুমের মাঝে অনাকাংখীত ও অপছন্দনীয় কিছু দেখলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচটি কাজ করতে বলেছেন।
  • ক) বাম দিকে তিন বার থুতু ফেলবে।
  • খ) أعوذ بالله من الشيطان الرجيم বলে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় চাইবে।
  • গ) এ স্বপ্নের কথা কাউকে বলবে না।
  • ঘ) যে কাতে শোয়া ছিল সে কাত থেকে ঘুরে শোবে অর্থাৎ পার্শ্ব পরিবর্তন করে শোবে।
  • ঙ) নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম র. এ পাঁচটি কাজ উল্লেখ করে বলেন : যে এই কাজগুলো করবে খারাপ স্বপ্ন তার ক্ষতি করতে পারবে না বরং এ কাজ তার ক্ষতি দূর করে দেবে।

(৭) সন্তানদের বয়স দশ বছর হয়ে গেলে তাদের বিছানা আলাদা করে দেয়া একান্ত আবশ্যক।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
مروا أولادكم بالصلاة وهم أبناء سبع سنين، واضربوهم عليها وهم أبناء عشر، وفرّقوا بينهم في المضاجعأبوداود ( ৪১৮)
অর্থাৎ তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাযের আদেশ দাও যখন তাদের বয়স সাত বৎসর হবে এবং এর জন্য তাদেরকে শাস্তি দাও যখন তাদের বয়স দশ বৎসর হবে এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও। [আবু দাউদ : ৪১৮]

(৮) মুসলমান অবশ্যই সর্বদা ফজরের নামাযের পূর্বে জাগ্রত হবে যেন নামায সময় মত জামাতের সাথে ঠিকভাবে আদায় করতে পারে। এ ব্যাপারে চেষ্টা করা এবং এতে সহায়তাকারী উপকরণাদি গ্রহন করা তার জন্য ওয়াজিব।

سئل النبي عن رجل نام حتى أصبَح؟  ্ذاك رجل بال الشيطان في أذنيهالنسائي (১৫৯০)

এক ব্যক্তি ফজর পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল তার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হল। রাসূল বললেন : ঐ ব্যক্তির কর্ণ-দ্বয়ে শয়তান প্রস্রাব করে দিয়েছে।     [নাসায়ী : ১৫৯০]

(৯) মুসলমান ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর নিম্নোক্ত দোয়া পড়া মোস্তাহাব:

الحمد لله الذي أحيانا بعد ما أماتنا وإليه النشور.

الحمد لله الذي ردّ علي روحي وعافاني في جسدي، وأذِن لي بذكره،

সকল প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে মৃত্যু দেয়ার পর জীবিত করে দিয়েছেন এবং তার কাছেই ফিরে যাব। 
সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লা¬র জন্য যিনি আমার আত্মাকে আমার নিকট ফিরিয়ে দিয়েছেন , আমার শরীরেকে সুস্থ রেখেছেন এবং আমাকে তার স্মরণের অনুমতি দিয়েছেন।
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুকরণে মিসওয়াক করবে।
ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদ ইবন গাফফার
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ

Book – কুরবানীর শিক্ষা – ফ্রি ডাউনলোড

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-
Kurbanir Sikkha
Author: Khandakar Abul Khayer (Rahimullah)| Language: Bangla | Size: 3.41 MB |Pages: 23 | Format: PDF

দারসে কুরআন তাদের জন্য

  • যারা কুরআনী জ্ঞা্ন লাভ করতে চান
  • যারা তাফসীর পড়ার সময় পান না।
  • যারা বড় বড় তাফসীর পড়তে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন।
  • যারা আরবি না জানলেও কুরআন বুঝতে আগ্রহী।
  • যারা তাফসীর মাহফিলে হাজির হওয়ার সুযোগ পান না।
  • যারা ইমাম,খতীব,মুবাল্লিগ এবং যুক্তিপুর্ণ বক্তব্য উপস্থাপনে আগ্রহী।

এই সিরিজের বৈশিষ্ট্য

  • ছোট ছোট আকারে সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা।
  • সরল অনুবাদ ও শব্দে শব্দে ব্যাখ্যা।
  • সহজবোধ্য ভাষায় আকর্ষনীয় যুক্তি।
এ প্রয়াসের লক্ষ্য
  • দেশব্যাপী কুরআনী জ্ঞানীর বিস্তার ঘটানো।
  • লক্ষ কোটি শার্দুলদের আরেকবার জাগিয়ে তোলা।

Download

কোন দিনে রোজা রাখবেন একই দিন না ভিন্ন ভিন্ন দিন?

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-
(অপ্রয়োজনীয় কোন আর্গুমেন্টে জড়াবেন না- এই শর্তে পড়তে পারেন। চাই না এই বিষয়ে উম্মাহর মধ্যে ফিতনা হোক)
হে মুসলমানগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা তাক্ওয়া অর্জন করতে পার” [আল-কুরআন, ২;১৮৩]।
প্রতি বছর সিয়াম সাধনার প্রারম্ভে, প্রান্তে এবং কুরবানীর ঈদের সময়ে আমরা একটি জাতীয় বিতর্কে লিপ্ত হই। আর এই বিতর্কের মধ্যমনি হলেন, নি:স্বার্থ পরোপকারী হিসেবে সু-প্রতিষ্ঠিত, অকৃপন জড় বস্তু ,পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ। যথাসময়ে না ওঠার দায়ে বরাবরই যিনি অভিযুক্ত।
আরবী তারিখ গণনা করা হয় চাঁদ দেখে। আরবী মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। চাঁদ দেখে বিভিন্ন সময়ের ইবাদত পালন করতে হবে, এ ব্যাপারে কারো কোনা দ্বিমত নেই। দ্বিমত হলো, একের চাঁদ দেখা অন্যের জন্য গ্রহনযোগ্য কিনা বা অন্যের উপর এটি কিভাবে বর্তাবে; তা নিয়ে। প্রতি বছর এ বিতর্ক যখন বরাবরের মত চরমে, তখন একজন সাধারণ বান্দা হিসেবে আমি আগ্রহী হলাম বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থ অধ্যায়নে এবং আলিম সমাজের মতামত গ্রহন করতে। চাঁদ দেখা সংক্রান্ত বিষয়ে আজ আমি আমার চিন্তা আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করতে চাচ্ছি। শুরুতে সংক্ষেপে দুটি হাদীস শুনে নেই:
*** রসূল সা: বলেন, তোমরা রোজা রাখবে না, যে পর্যন্ত না চাঁদ দেখতে পাও। একইভাবে তোমরা রোজা ভঙ্গ(ঈদ) করবে না, যে পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখতে পাও। তবে যদি মেঘের কারনে তা তোমাদের কাছে গোপন থাকে, তবে শাবান মাস পূর্ণ করবে ত্রিশ দিনে। অপর বর্ণনায় আছে,তিঁনি(সা বলেন- মাস কখনও উনত্রিশ দিনেও হয়। (সূত্র: সহীহ বুখারী -৩য় খন্ড, ১৭৮৫-১৭৯০, সহীহ মুসলিম-৩য় খন্ড, ২৩৬৭-২৩৯৪)
*** রোজা রাখ চাঁদ দেখে এবং রোজা ভঙ্গ করবে চাঁদ দেখে। যদি মেঘের কারনে চাঁদ গোপন থাকে, তবে সাবান মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ করবে। (সূত্র: সহীহ বুখারী ৩য় খন্ড, ১৭৮৫-১৭৯০, সহীহ মুসলিম ৩য় খন্ড, ২৩৬৭-২৩৯৪)
এ হাদীসের অর্থ হল-তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখবে এবং চাঁদ দেখেই রোজা ভঙ্গ করবে বা ঈদ পালন করবে। উল্লেখ্য: এখানে রসূল সা: ‘তোমরা’ বলতে, আমাদেরকেই বুঝিয়েছেন। সামনের আলোচনায় ব্যাপারটি আরও স্পষ্ট হবে। সর্ব প্রথম প্রশ্ন করব, এখানে তোমরা(বা আমরা) কারা ? এরা কি তৎকালীন মক্কা,মদীনার মানুষেরা/ সকল সাহাবা রা:/আজকের মক্কা/মদীনা বা আরবের লোকেরা, নাকি রসূলের সা: সকল উম্মত ? আমার ধারণা সকলেই এক মত পোষণ করবেন যে, তোমরা বলতে এখানে উম্মতে মুহাম্মদীকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ বক্তব্য এই যে, রসূল সাঃ তাঁর উম্মতের পুরো অংশকে নির্দেশ দিচ্ছেন-“তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখবে এবং ঈদ পালন করবে। এখানে মেঘের কারনে চাঁদ দেখা যাওয়া/ না যাওয়ার ব্যাপারটিও সকল উম্মতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
“তোমরা চাঁদ দেখে রোজা, ঈদ পালন করবে” এ আদেশ কি উম্মতের প্রত্যেকটি ব্যক্তির উপর প্রযোজ্য ?
যদি এটি প্রত্যেকটি ব্যক্তির উপর সমভাবে প্রযোজ্য হয়, তবে প্রত্যেকটি মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে চাঁদ দেখতে হবে। একের চাঁদ দেখা অন্যের উপর বর্তাবে না। যারা চাঁদ দেখবে তারাই রোজা রাখবে বা ঈদ পালন করবে এবং যারা তা দেখতে পাবে না তারা পালন করবে না অথবা যেদিন দেখবে সেদিনই শুধু রোজা বা ঈদ পালন করবে। আমার ধারণা কোনো আলিমই এ মতের সাথে এক মত পোষণ করবেন না। পূর্ববর্তী কোনো সময়েই এটি পরিলক্ষিত হয়নি। কারণ-রসূল সাঃ এমন নির্দেশ প্রদান করেননি। একের চাঁদ দেখা অন্যের জন্য যথেষ্ট হবে কিনা সে বিষয়টি আমরা একটি হাদীসের মাধ্যমে জেনে নেই:
*** “রসূল সা: আমাদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন যে,আমরা যেন শাওয়ালের চাঁদ দেখাকে ইবাদত হিসেবে গুরুত্ব দেই। আর আমরা স্বচক্ষে যদি তা না দেখি তবে দুজন ন্যায় পরায়ন লোক এ ব্যাপারে স্বাক্ষ্য প্রদান করলে তখন আমরা যেন তাদের সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করি।“ (সূত্র:আবু দাউদ-৩য় খন্ড/২৩৩১,২৩৩২)
এবারে বিষয়টাকে আরও একটু বর্ধিত করে নেই। আমরা জানতে পারলাম,রোজা এবং ঈদ অবশ্যই চাঁদ দেখে পালন করতে হবে এবং এও জানতে পারলাম যে, একের চাঁদ দেখা অন্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, অন্য যে ব্যক্তি আমার অবর্তমানে বা আমার পরিবর্তে চাঁদ দেখছেন তার সাথে আমার কেমন সম্পর্ক হতে হবে ? (১)তাকে কি আমার পরিবারের সদস্য হতে হবে ? (২) তাকে কি আমার গোত্র/বংশের কেউ হতে হবে? (৩)তাকে কি আমার পাড়া বা মহল্লা/এলাকার লোক হতে হবে ? (৪) তাকে কি আমার ভাষার লোক লোক হতে হবে? (৫) তাকে কি আমার দেশের লোক হতে হবে? অথবা (৬) তাকে শুধুমাত্র রসূলের(সাঃ) উম্মত হলে চলবে কি না ?
আমাদের আজকের আলোচনার জন্যে উপরের প্রত্যেকটি প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ। চলুন ব্যপারটি বুঝতে আমরা দুটি হাদীস দেখে নেই:
*** একবার সাহাবীগণ রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। তারা তারাবিহ নামাজ না পড়ার এবং পরদিন রোজা না রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন। এমতাবস্থায় ‘হাররা’ নামক এক স্থান থেকে জনৈক বেদুইন এসে সাক্ষ্য দেয় যে, সে চাঁদ দেখেছে। তখন তাকে রসূল সা: এর দরবারে নিয়ে আসা হয়। রসূল সা: তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল’ ? সে বলে, হ্যা আমি সাক্ষ্য দেই এবং আরও সাক্ষ্য দেই যে, আমি নতুন চাঁদ দেখেছি। অত:পর রসূল সা: হযরত বেলাল রা: কে নির্দেশ দিলেন, লোকদেরকে জানিয়ে দেওয়ার জন্যে যাতে তারা তারাবিহ নামাজ পড়ে এবং পরদিন রোজা রাখে। (সূত্র: আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩৩৩, ২৩৩৪, তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ,দারেমী)
বি:দ্র: এই হাদীসটি আবু দাউদ শরীফে তিন জন রাবীর বর্ণনায় আলাদা আলাদা ভাবে বর্ণিত হয়েছে অথাৎ একই রকম তিনটি হাদীস রয়েছে।
*** একবার লোকেরা রমজানের শেষে শাওয়ালের চাঁদ দেখা নিয়ে মতভেদ করেন। তখন দুজন বেদুইন রসূল সা: এর কাছে হাজির হয়ে আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য প্রদান করেন যে,গত সন্ধ্যায় তারা শাওয়ালের চাঁদ দেখেছে। তখন রসূল সা: লোকদেরকে রোজা ভাঙ্গার নির্দেশ দেন। রাবী খালফ তার হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, রসূল সা: আরও বলেন যে, লোকেরা যেন আগামীকাল ঈদগাহে আসে”
(সূত্র:আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩৩৩,২৩৩৪)
আমরা হাদীস দুটি শুনলাম এবং বুঝলাম যে, যিনি/যারা চাঁদ দেখে সাক্ষ্য প্রদান করছেন, তাদেরকে অন্যদের পরিবারের সদস্য হবার প্রয়োজন নেই, তাদের বংশের/গোত্রের লোক হবারও প্রয়োজন নেই। তাদের এলাকা/দেশের লোক হবারও প্রয়োজন নেই। এ হাদীস অনুযায়ী রসূল(সাঃ) ভিন্ন একটি স্থানের লোকদের সাক্ষ্য গ্রহন করেছেন। এখানে আরও উল্লেখ্য যে, এ ব্যাপারে বিশ্বস্ত এক জনের সাক্ষ্যও গ্রহনযোগ্য। এ মর্মে আমরা দুটি হাদীস জেনে নেই :
*** হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর(রাঃ) বলেন,একবার বহু লোক মিলে চাঁদ দেখতে ও দেখাতে লাগল। আমি গিয়ে রসূল সা:কে সংবাদ দিলাম যে, আমি চাঁদ দেখেছি। এ সংবাদ শুনে রসূল সা: নিজে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং লোকদেরকেও রোজা রাখতে নির্দেশ দিলেন। (সূত্র: আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩৩৫,দারেমী)
*** হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন রসূল(সাঃ)এর নিকট এসে বলল-আমি রমজানের নতুন চাঁদ দেখেছি। তিঁনি(সঃ) জিজ্ঞেস করলেন-‘তুমি কি এ সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ? তুমি কি আরও সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্দ (সাঃ) আল্লাহর রসূল ?’ সে বলল-হ্যা। অত:পর রসূল(সাঃ) বললেন-হে বেলাল ! লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও,তারা যেন আগামী কাল থেকে রোজা রাখে
( সূত্র: সূত্র:আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩৩৩,২৩৩৪ তিরমিযী)
আমার বিশ্বাস যে পর্যন্ত আলোচনা করা হয়েছে, সে পর্যন্ত সকল আলেমই একমত পোষণ করবেন। বিপত্তি আসলে এর পরের অংশ নিয়ে। চলুন সে সংক্রান্ত আলোচনায় প্রবেশ করি।
আমরা দেখলাম চাঁদ দেখার ব্যাপারে ভিন্ন এলাকার লোকের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে। কিন্তু সে লোকটি কতদূর থেকে এসে সাক্ষ্য দিলে তা গ্রহনযোগ্য হবে, এ মর্মে আমরা কোনো হাদীস দেখতে পাইনা এবং পূর্ববর্তী সময়ের কোনো ঘটনাও এটিকে সমর্থন করেনা যে, কেউ বেশী দূরবর্তী স্থান থেকে এসে সাক্ষ্য দেওয়ার কারনে তার সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়নি। অর্থাৎ যে লোকটি ভিন্ন এলাকা থেকে আগত হয়েছেন, তিনি কত দূরবর্তী স্থানের মানুষ তা বিষয় নয়। বরং তিনি একজন সহীহ মুসলিম এবং বিশ্বস্ত কিনা সেটি আলোচনার বিষয়। কেউ যদি বলে উক্ত ব্যক্তি ভিন্ন দেশের মানুষ হলে তার সাক্ষ্য গ্রহন করা হবে না , তবে একই দেশের ভেতর অবস্থিত ভিন্ন এলাকার মানুষ হলে তার সাক্ষ্য গ্রহন করা হবে । এমনটি বললে, আমরা তার কাছে হাদীসের দলিল চাইতে পারি দেশ সংক্রান্ত বিষয়ে ,অবশ্য তিনি তার স্বপক্ষে দলিল পেশ করতে সক্ষম হবেন না।
দেশ ব্যাপারটি কি ?
দেশ ব্যাপারটি হলো একটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সীমারেখা,যার উপর ভিত্তি করে একটি এলাকাকে নিজেদের বলে আখ্যায়িত করা হয়। মূলতঃ পৃথিবী আল্লাহর এবং তা সকল মানুষের জন্যে উম্মুক্ত। হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) সারা পৃথিবীর সকল মানুষের জন্যে রসূল। তিনি নির্দিষ্ট কোনো গোত্র, সম্প্রদায়ের জন্যে নির্ধারিত নন। আর তাই তাঁর(সাঃ) সকল বক্তব্য পৃথিবীর সকল মানুষের জন্যে সমভাবে প্রযোজ্য।
অতএব, চাঁদ দেখা সংক্রান্ত বিষয়টি সারা পৃথিবীর সকল মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কোনো এলাকার লোক চাঁদ দেখতে ব্যর্থ হলে, ভিন্ন এলাকার মানুষের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে এবং এখানে সেই লোকটি কত দূরবর্তী স্থানের লোক তা বিবেচনায় আনা হয়নি। এখানে আরেকটি বাস্তবতা হলো যোগাযোগের মাধ্যম। তৎকালীন সময়ে মানুষের বাহন ছিল ঘোড়া, গাধা, উট, পদযুগল ইত্যাদী। এগুলোর উপর ভিত্তি করে একজন মানুষের পক্ষে এক দিনে খুব বেশীদূর অগ্রসর হওয়া সম্ভবপর ছিলনা। ফলে যিনি চাঁদ দেখছেন তার পক্ষে দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষকে জানানো সম্ববপর ছিলনা। আজকের দিনের মত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, টেলিফোন না থাকাতে তাদের পক্ষে দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষের সাথে তাৎক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব ছিল না। ফলে, সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে প্রথমে তা নিজ এলাকার লোকদেরকে জানিয়ে দেওয়া হত, তারপর পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষদেরকে জানানোর জন্যে ঘোড়া সওয়ার পাঠানো হত। প্রথম থেকেই এই নিয়ম চালু ছিল। কিন্তু ঘোড়া সওয়ারের পক্ষেও বহুদূর গমন করা সম্ভবপর ছিলনা। কিন্তু আমরা এখান থেকে একটি বিষয় বুঝতে পারি, তা হলো-কোনো এলাকায় চাঁদ দেখা গেলে যথাযথ গুরুত্বের সাথে অন্য এলাকার মানুষকে জানানো জরুরী, যাতে করে সকলে একসাথে রোজা ,ঈদ পালন করতে পারে।
ঘোড়ার মাধ্যমে যোগাযোগের এ মাধ্যমটির চেয়েও আরও উন্নত যোগাযোগ মাধ্যম পরবর্তী সময়ের খিলাফতের যুগে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। সে সময়ে সমুদ্রবক্ষে জাহাজের নিরাপদে দিক চিনে চলাচলের সুবিধার্তে যে সকল লাইট হাউস বা বাতিঘর ছিল, আকাশে চাঁদ দেখা গেলে সেগুলিতে আলো জ্বালিয়ে দেওয়া হত। একটি লাইট হাউসে আলো জ্বললে সে খবর যখন অন্যটিতে পৌঁছাত ,তখন অন্যটিতেও আলো জ্বালিয়ে দেওয়া হত। এভাবে জনতা আলো জ্বলতে দেখে চাঁদ দেখার ব্যাপারটি বুঝতে পারত। এ প্রক্রিয়ায় যে সকল এলাকার মানুষ চাঁদ দেখার ব্যাপারটি বুঝতে পারত,সে সকল এলাকার মানুষেরা রোজা,ঈদ একসাথে পালন করত।
এখান আমরা একটু লক্ষ্য করলে বুঝতে পারব যে, আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, এ সংবাদটি পায়ে হেটে অন্যদেরকে জানানো, ঘোড়ায় চড়ে জানানো, লাইট হাউসের মাধ্যমে জানানোর মধ্যে বিষয়ভিত্তিক কোনো পার্থক্য নেই বরং প্রযুক্তিগত পার্থক্য রয়েছে, যা প্রথম যুগ থেকেই গ্রহন করা হয়েছে। বেশী সংখ্যক মানুষকে দ্রুততার সাথে জানানোর জন্যে এ মাধ্যমগুলি প্রযুক্তি বিশেষ,যা সময়ের প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়েছে। এখানে উক্ত প্রযুক্তির একটিই উদ্দেশ্য ছিল, তা হলো-দ্রুততার সাথে অন্যদেরকে চাঁদ দেখার সংবাদটি জানানো।
আজকের এই প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সময়ে যদি কেউ এক এলাকাতে চাঁদ দেখতে পায় এবং তা অন্য এলাকার লোকদেরকে টেলিফোনে, ইন্টারনেটে, টেলিভিশনে, রেডিওর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়, তাহলে তা পূর্ববর্তী সময়ের পায়ে হাটা, ঘোড়ায় চড়া, লাইট হাউসের মাধ্যমে ঘটিত প্রচারণার সমপর্যায়েরই হবে। কারণ, এখানে উদ্দেশ্য একই। এ লক্ষ্যে কোনো ভৌগলিক সীমারেখা ইসলামে বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং জাতীয়তাবাদী নীতিতে আবদ্ধ হয়ে মুসলিমদের ভূখন্ডকে ভৌগলিক বিভাজন করা সুস্পষ্ট হারাম। রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি জাতীয়তাবাদের (আসাবিয়্যার) প্রতি আহ্বান করে সে আমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়।”
অতএব, যদি আরবের কোথাও চাঁদ দেখা যায়, তাহলে সে সংবাদ ভিন্ন এলাকায় পৌঁছে গেলে “চাঁদ দেখা গেছে” ব্যাপারটি উক্ত এলাকার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। আবার ভিন্ন এলাকাতে চাঁদ দেখা গেলে সে সংবাদ আরবে পৌঁছলে, আরবের জন্যও এটি গ্রহনযোগ্য হবে। এভাবে সকল স্থানের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি একই। চাঁদকে জাতীয়তাবাদের সংকীর্ণ ধারনার জালে জড়ানো যাবে না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়:- ধরে নিলাম, ইরাকের সময়ের চেয়ে বাংলাদেশের সময় ৩ ঘন্টা কম, অর্থাৎ ইরাকে যখন মাগরিবের সময় হবে তার তিন ঘন্টা পর বাংলাদেশে মাগরিবের সময় হবে। সে অনুযায়ী ইরাকে চাঁদ দেখা গেলে বাংলাদেশের লোক সে সংবাদ বিকেলের দিকে জানতে পারবে এবং সন্ধ্যায় এখানে চাঁদ দেখা যাক বা না যাক ধরে নেওয়া হবে চাঁদ দেখা গেছে বা উদীত হয়েছে। এখানে আমরা ভিন্ন এলাকার মানুষের সাক্ষ্য গ্রহন করলাম সুন্নাহ অনুযায়ী। আবার এমনও হতে পারে, ইরাকের লোকেরা চাঁদ দেখতে পেলনা এবং এ সংবাদটিও আমরা বিকেলের দিকে জানতে পারব, তখন আমরা সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার চেষ্টা করব। যদি এখানে চাঁদ দেখা যায়, তাহলে আমরা তাদেরকে এবং অন্যদেরকে জনাবো এবং তা গ্রহনীয় হবে। যদি এখানেও না দেখা যায় তবে আমাদের চাইতে যে সকল এলাকার সময় কম অর্থাৎ আরো পরে সন্ধ্যা হয়, তারা আকাশে চাঁদ খোঁজার চেষ্টা করবে এবং পেলে তা ঘোষিত হবে সকলের জন্যে। এখানে আরেকটি ব্যাপার উল্লেখ করার আছে :
পৃথিবীর এক প্রান্তের সাথে অপর প্রান্তের সময়ের সর্বোচ্চ পার্থক্য ১২ ঘন্টা। যদি আমরা বা অন্য কোনো অঞ্চলের মানুষেরা সেহরী করার নির্ধারিত সময় পার হবার পর , চাঁদ উদীত হবার ব্যাপারে জানতে পারে, তাহলে তাদের উপর উক্ত দিনের রোজা রাখার বাধ্যবাদকতা অর্পিত হয়না। আবার চাঁদ উদিত হয়েছে, এ সত্য সংবাদটি কারো কাছে অথবা কোনো এলাকার নিকট না পৌঁছালে তাদের উপরও রোজা রাখা বা অন্যদের সাথে ঈদ(যদি ঈদের চাঁদ দেখার সংবাদ তাদের কাছে না পৌঁছায়) পালন করার বাধ্যবাদকতা অর্পিত হয়না। সে পরিস্থিতিতে তাদেরকে নিজেদের প্রচেষ্টায় চাঁদ দেখতে হবে(অথবা ত্রিশ রোজা পূর্ণ করতে হবে), যেহেতু অন্য স্থান থেকে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারনে তথ্য আসার সম্ভাবনা নেই। এ প্রসঙ্গে আমরা হাদীস থেকে জানব:
*** হযরত মূসা ইবনে ইসমাইল কুরায়ব থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, উম্মে ফাযল বিনতে হারিস তাকে মুয়াবিয়ার কাছে শাম দেশে(সিরিয়া) পাঠান। তিনি বলেন, আমি সিরিয়া থাকা অবস্থায় রমজানের চাঁদ ওঠে এবং আমরা তা দেখি জুম্মার রাতে। অত:পর আমি রমজানের শেষের দিকে মদীনায় ফিরে আসি। ইবনে আব্বাস আমাকে সফর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন এবং বিশেষ করে চাঁদের সম্পর্কে বলেন-“তোমরা রমজানের চাঁদ কখন দেখেছিলে ?” আমি বলি-জুম্মার রাতে দেখেছি। অত:পর তিরি জিজ্ঞেস করেন-“তুমি নিজেও কি তা দেখেছিলে ?” আমি বলি, হ্যাঁ এবং অন্যান্য লোকেরাও দেখেছে ও রোজা রেখেছে, এমনকি মুয়াবিয়াও রোজা রাখেন। ইবনে আব্বাস বলেন, আমরা চাঁদ দেখেছি শনিবার রাতেসুতরাং আমরা ত্রিশদিন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রোজা রাখব অথবা শাওয়ালের চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোজা রেখে যাব। আমি বললাম, মুয়াবিয়ার দর্শন ও রোজা রাখা কি এ ব্যাপারে যথেষ্ট নয়? তিনি বলেন না, আমাদেরকে রসূল সা: এরকম করতে নিষেধ করেছেন। (সূত্র:আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩২৬)
*** তাবেঈ ইবনে বাখতারী বলেন, একবার আমরা ওমরা করার জন্যে বের হলাম। যখন আমরা বাতনে নাখলা নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন সকলে মিলে চাঁদ দেখতে পেলামআমাদের মধ্যে কেউ বলল, এটি তিন দিনের চাঁদ, কেউ বলতে লাগল এটি দুই দিনের চাঁদ। পরে আমরা যখন ইবনে আব্বাসের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, আমরা রমজানের চাঁদ দেখেছি, কিন্তু আমাদের কেউ বলেছে এটি তিন দিনের ,কেউ বলেছে এটি দুই দিনের চাঁদ। ইবনে আব্বাস বললেন, তোমরা কোন রাতে দেখেছো ? আমরা বললাম,অমুক রাতে। তখন তিনি বললেন, রসূল সা: সেখান থেকে তারিখ গণনা করতেন, যে রাতে চাঁদ দেখতেন। ( সূত্র: সহীহ মুসলিম ৩য় খন্ড/২৩৯৭,তিরমিযী)
এখানে উল্লেখ্য যে, মদীনা থেকে তৎকালীন সিরিয়ার দূরত্ব এত বেশী ছিল যে, একই দিনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগাযোগ করা সম্ভবপর ছিলনা। ফলে, উভয় এলাকার মানুষ ভিন্ন তারিখে চাঁদ দেখে রোজা রেখেছে। পরের হাদীসটিতেও একই ব্যাপার ঘটেছে অর্থাৎ তাদের কাছে অন্য এলাকার কোনো তথ্য পৌঁছেনি,ফলে তাদেরকে নিজেদের মত করে চাঁদ দেখতে হয়েছে। যদি তাদেরকে ভিন্ন এলাকার কোনো লোক এসে “চাদ দেখা গেছে” এ সংবাদ দিত ,তাহলে তারা অবশ্যই তা গহন করতেন; পূর্বোক্ত হাদীস অনুযায়ী। এক্ষেত্রে শর্ত হল, যিনি/যারা চাঁদ দেখার বিষয়টি জানাচ্ছেন, তিনি/তারা বিশ্বাসযোগ্য কি না। যদি তিনি বা তারা বিশ্বাসযোগ্য হন তাহলে তার সাক্ষ্য গ্রহন করা হবে। বর্তমান কালে স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ইন্টারনেটের কল্যানে চাঁদকে পৃথিবীর সকল এলাকাবাসীর সামনে সরাসরি উপস্থাপন করা যায়। সুন্নাহ অনুযায়ী এই চরম সত্য বিষয়টি গ্রহনযোগ্য হবার কথা। কিন্তু এটি গ্রহনযোগ্য না হলে একমাত্র আন্তর্জাতিক ভৌগলিক সীমারেখা বা রাজনৈতিক বিষয়টিই চাঁদ দেখা সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রধান বাঁধা হয়ে দাড়ায়, যা সরাসরি সুন্নাহ বিরোধী।
এছাড়া কিছু কিছু এলাকাতে(মেরু এলাকাতে) ৬ মাস দিন এবং ৬ মাস রাত হয়। নরওয়েতে কখনই রাত বা সন্ধ্যা হয়না এবং ইউরোপের কয়েয়কটি দেশে কখনও কখনও দিন ২৩ ঘন্টা পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়ে থাকে। এ সমস্ত ক্ষেত্রে তাদেরকে ভিন্ন এলাকার তথ্যের সাহায্যে রোজা এবং ঈদ পালন করতে হবে/হয়। কেউ যদি বলে, প্রত্যেক দেশের মানুষকে চাঁদ দেখতে হবে, তাহলে তার কাছে জানতে চাইব, নরওয়ে, গ্রিনল্যান্ড ইত্যাদী দেশে এবং উত্তর মেরু, দক্ষিন মেরুতে থাকা সহীহ মুসলিমদের কি হবে? জাতীয়তাবাদী চাঁদ তাদের জাতিকে স্বীকৃতি দিলনা রোজা বা ঈদ পালনের ! নাকি রোজার পূর্বে তাদেরকে দেশ ত্যাগ করে ‘সময়মত চাঁদ ওঠে’ এমন দেশে পাড়ি জমাতে হবে? আবারও পূর্বোক্ত হাদীস পেশ করছিঃ-
*** রসূল সা: বলেন, তোমরা রোজা রাখবে না, যে পর্যন্ত না চাঁদ দেখতে পাও। একইভাবে তেমরা রোজা ভঙ্গ(ঈদ) করবে না,যে পর্যন্ত না শাওয়ালের চাঁদ দেখতে পাও। তবে যদি মেঘের কারনে তা তোমাদের কাছে গোপন থাকে,তবে শাবান মাস পূর্ণ করবে ত্রিশ দিনে। অপর বর্ণনায় আছে,তিনি সা: বলেন- মাস কখনও উনত্রিশ রাতেও হয়। (সূত্র: সহীহ বুখারী -৩য় খন্ড, ১৭৮৫-১৭৯০, সহীহ মুসলিম-৩য় খন্ড, ২৩৬৭-২৩৯৪)
*** রোজা রাখ চাঁদ দেখে এবং রোজা ভঙ্গ করবে চাঁদ দেখে। যদি মেঘের কারনে চাঁদ গোপন থাকে তবে সাবান মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ করবে। (সূত্র: সহীহ বুখারী ৩য় খন্ড, ১৭৮৫-১৭৯০, সহীহ মুসলিম ৩য় খন্ড, ২৩৬৭-২৩৯৪)
এখানে রসূল(সাঃ) সারা বিশ্বের সমস্ত মানুষকে উদেশ্যে করে এ বিধানটি শুনিয়ে দিচ্ছেন। ফলে তা সেভাবেই পালিত হবে। সারা বিশ্ব যদি মেঘে ঢেকে থাকে তবে চাঁদ দেখা যাবে না এবং সাবান মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ হবে। এছাড়া যদি কোনো দিন সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি হয় তাহলে রসূল(সাঃ) বলেন:-
যে ব্যক্তি সন্দেহের দিনে রোজা রেখেছে,সে আবুল কাশেমের (রসূল সা এর নাফরমানী করেছে। ( সূত্র: আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩২৭, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
অনুরূপভাবে ‘ঈদের চাঁদ দেখা গেছে’ এই সংবাদ প্রকাশিত হলে, সকলকে একসাথে ঈদ পালন করতে হবে। কোনোভাবেই ঈদের দিনে রোজা রাখা যাবে না।
*** আবু সাঈদ খুদরী রা: থেকে বর্নীত, রাসুল (সাঃ) রোযার ঈদের দিন এবং কুরবানীর ঈদের দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। (সূত্র: সহীহ সহীহ বুখারী ৩য় খন্ড/১৮৬৭,১৮৬৮ ও সহীহ মুসলিম ৩য় খন্ড/২৫৩৭-২৫৪২)।


প্রখ্যাত আলেম ওলামাগণ এ সিন্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে,- এক শহরের মানুষ রমযানের চাঁদ দেখলে অন্য শহরের লোকদের জন্যও চাঁদ দেখা প্রমাণিত হবে। এমনকি পৃথিবীর একেবারে পশ্চিম প্রান্তে চাঁদ দেখা গেছে, এই সংবাদ যদি নির্ভরযোগ্য সূত্রে পূর্ব প্রান্তের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছে, তবে তাদের উপর এই দিনে রমযানের রোযা ফরয হবে।
(সূত্র: দুররুল মুখতার, ২য় জিলদ, পৃষ্ঠ-১০৮; আলগিরী, ১ম জিলদ, পৃঃ-১৯৮; বাহরুর রায়েক, ২য় জিলদ, পৃঃ-২০৭; মাজমাউল আনহুর, ১ম জিলদ, পৃঃ- ২৩৯)
হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহ এর যাহিরুর রেওয়ায়াহ এবং ফেকাহায়ে হানাফিয়ার অধিকাংশের অভিমত হল চন্দ্রের উদয় ও অস্তের ব্যবধান গ্রহণযোগ্য নয়। তারা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে বিরাট ব্যবধান হওয়া সত্যেও উদয় অস্তের পরিবর্তনের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে এক রাস্ট্রের চাঁদ দেখাকে অন্য রাস্ট্রের জন্য যথেষ্ট মনে করে রায় প্রদান করেছেন।
একটি যুক্তিঃ
হযরত শিব্বির আহমাদ উসমানী (রহ) ফতহুল মুলহিম নামক হাদীসের কিতাবে নিজের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন যে, আরবী মাস ২৯ দিন বা ৩০ দিন হয়ে থাকে। কোন দেশে ২৮ রমজানের দিন যদি খবর আসে যে অন্য দেশে চাঁদ দেখা গিয়েছে, সে অনুযায়ী রোযা ভাংগ করলে তো তাদের রমজান মাস ২৮ দিন হয়ে যাবে। আবার ৩০ দিন রোযা রাখার পরেও যদি কোথাও চাঁদ দেখার খবর না আসে, তাহলে তো তাদের ৩১ টি রোযা রাখতে হবে। অথচ চন্দ্র মাস তো ২৮ দিন কিংবা ৩১ দিন হয় না। তাই যার যার দেশের চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে রোযা পালন বা মাস গণনা করাই শ্রেয়।
প্রথমতঃ এ অভিমতের স্বপক্ষে সুন্নাহ ভিত্তিক কোন দলিল নেই। দ্বিতীয়তঃ তিনি বলেছেন আরবী মাস ২৮ দিন কিংবা ৩১ দিন হবে না, একথা সঠিক। কিন্তু কখন মাস গণনা শুরু হবে তার প্রতি গুরুত্ব¡ না দিয়ে দুরবর্তী কোন দেশে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে মাস শেষ করলেই একম হতে পারে। তাই মাসের শুরুটাও একই নিয়ম হতে হবে। অর্থাৎ চাঁদ দেখার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই মাস শুরু করতে হবে। মাস শুরু করা এবং শেষ করার ক্ষেত্রে একই নিয়ম পালন করলে আর এরকম সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। তাহলে কোন মাস ২৮ দিন বা ৩১ দিন হবে না। আর যথাযথ ভাবে মাস শুরু করার ৩০ দিন পরেও, চাঁদ দেখা না গেলে রোযা ভংগ করতে হবে, এটিই সুন্নাহ। এখানে পূর্বোক্ত একটি হাদীস আবারও পেশ করতে হচ্ছে:-
*** তাবেঈ ইবনে বাখতারী বলেন,একবার আমরা ওমরা করার জন্যে বের হলাম। যখন আমরা বাতনে নাখলা নামক স্থানে পৌঁছলাম,তখন সকলে মিলে চাঁদ দেখতে পেলামআমাদের মধ্যে কেউ বলল, এটি তিন দিনের চাঁদ, কেউ বলতে লাগল এটি দুই দিনের চাঁদ। পরে আমরা যখন ইবনে আব্বাসের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম,আমরা রমজানের চাঁদ দেখেছি,কিন্তু আমাদের কেউ বলেছে এটি তিন দিনের ,কেউ বলেছে এটি দুই দিনের চাঁদ। ইবনে আব্বাস বললেন, তোমরা কোন রাতে দেখেছো ? আমরা বললাম,অমুক রাতেতখন তিনি বললেন, রসূল সা: সেখান থেকে তারিখ গণনা করতেন,যে রাতে চাঁদ দেখতেন। ( সূত্র: সহীহ মুসলিম ৩য় খন্ড/২৩৯৭,২৩৯৮,তিরমিযী)
এ হাদীসটিতে নাখলা নামক স্থানে যারা ছিলেন, তাদের কেউ কেউ রোজার চাঁদকে দেখে বলছিলেন এটি দুই দিনের এবং কেউ কেউ বলছিলেন, এটি তিন দিনের। যদি চাঁদটি দুই দিনের পুরোনো হয়ে থাকে তাহলে তাদের পক্ষ্যে কি কোনোভাবেই ২৯টি বা ৩০টি রোজা পাওয়া সম্ভব(যেহেতু আরবী মাস ২৮ বা ৩১ দিনে হয়না) ? উক্ত তবেঈ ২৮টি রোজার পালন করার পর যদি ঈদের চাঁদ দেখতে পান,তাহলে কি তার বা তাদের সকলের রোজা বরবাদ হয়ে যাবে বা আল্লাহ কতৃক প্রত্যাখ্যাত হবে ? অথবা তারা কি রোজার চাঁদ ২/৩ তিন দিন পরে দেখতে পেয়ে ভুল করেছিলেন ? দুই দিনের পুরোনো চাঁদ দেখে ২৮টি রোজা পালনের পর তারা যদি ঈদের চাঁদ দেখতে পেতেন,তাহলে কি সেদিনটিতে(অর্থাৎ ঈদের দিনে) রোজা রেখে ২৯টি রোজা পূর্ণ করতেন ?
মূলত: তারা তাদের সাধ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তাদের কাছে চাঁদ দেখা সংক্রান্ত বিষয়ে অন্য একালার তথ্য ছিলনা, ফলে তাদেরকে নিজেদের প্রচেষ্টায় চাঁদ দেখতে হয়েছে কিন্তু তারা যথা সময়ে চাঁদ দেখতে সক্ষম হননি। অথবা তাদের কাছে সাবান মাসের যথাযথ হিসাব ছিলনা,যদিও রসূল(সাঃ) সাবান মাস গণনায় অতিরিক্ত সাবধানী ছিলেন। তবে যদি কোনো এলাকার লোক ২৮টি রোজা রাখার পর আকাশে ঈদের চাঁদ দেখতে পায় ,তবে অবশ্যই তাদেরকে ঈদ পালন করতে হবে,কারণ-ঈদের দিন রোজা পালন হারাম। আর সঠিকভাবে সাবান মাস গণনা করা হলেও রমজান মাস ৩১দিনে উত্তীর্ণ হবার সম্ভাবনা নেই। একইসাথে সাবান মাসের ২৯ তারিখে যদি কোথাও চাঁদ দেখতে না পাওয়া যায়,তবে অনুমানের উপর নির্ভর করে পরের দিন রোজা পালন করা যাবে না। উক্ত দিনকে সন্দেহযুক্ত দিন বলা হয় এবং সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা পালন করা যাবে না।
ঠিক এমনই একটি সন্দেহযুক্ত দিনে একবার প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসীর(রাঃ)এর সামনে একটি ভূনা বকরী উপস্থিত হয় এবং তখন তিঁনি(সাঃ) সকলকে বললেন-খাও। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি দূরে সরে গিয়ে বলল-আমি রোজাদার। আম্মার ইবনে ইয়াসীর(রাঃ) বললেন-যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত দিনে রোজা রাখে সে আবুল কাসিমের(রসূল সাঃ) সাথে অবাধ্য আচরণ করেছে। (সূত্র: আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩২৭, তিরমিযী)
আর একটি যুক্তি ও তার জবাবঃ
যারা একই দিনে রোযা রাখার কথা বলেন, তাদের যুক্তি খন্ডন করার জন্য এক শ্রেণীর মানুষ বলেন যে, “একই দিনে রোযার কথা বলেন, তাহলে সকল এলাকায় একই সময় নামাযের কথা বলেন না কেন ?” মূলত: এখানে একই দিনে রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে, এই সময়ে নয়। রোজা রাখার বিষয়টি যেকোনো এলাকার আকাশে চাঁদ দেখার উপর নিভরশীল এবং এক স্থানের সাথে অন্য স্থানের সর্বোচ্চ সময়ের পার্থক্য ১২ ঘন্টা হতে পারে,এর বেশী নয়(মেরু অঞ্চল সম্পর্কে পূর্বে আলোচিত হয়েছে)। দীবা-রাত্রীর আবর্তনের ফলেই এটি হয়ে থাকে। কিন্তু নামাজের সময়টি চাঁদ দেখার সাথে সম্পৃক্ত নয়, ফলে উদাহরন হিসেবে এটি মোটেও গ্রহনযোগ্য হবে না। নামাজের সময় পৃথিবী-সূর্য্যরে আবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সময়ের পার্থক্যের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ আমি যেখানেই থাকিনা কেন, সূর্য্য উদীত হবার পূর্বেই ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে,বেলা দ্বিপ্রহরের সময় যোহর, সূর্য্য টলে গেলে আসর,অস্ত গেলে মাগরিব এবং তার পর এশার নামাজ আদায় করতে হবে। যেসকল এলাকায় ৬মাস দিন, ৬মাস রাত হয় অথবা যেখানে কখনই রাত হয়না অথবা যেখানে ২৩ ঘন্টা পর্যন্তও দিন দীর্ঘায়িত হতে পারে, সেখানে সময়ের একটি হিসাব করে, ভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য গ্রহন করে নামাজ, রোজা পালন করতে হবে।
এবারে আমরা একটু বাস্তবতার ভেতর প্রবেশ করব:
প্রায় প্রত্যেক রমজান এবং ঈদের সময় আমাদের সাথে আরব/আফ্রিকা/মধ্য এশিয়া/এশিয়ার অনেক দেশ এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশের সাথেও এক/দুই দিনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। আমাদের দেশে চাঁদ দেখার জন্যে একটি জাতীয় কমিটি রয়েছে এবং তারা শুধু বাংলাদেশের জন্যে চাঁদ তল্লাসী করেন। যখন তারা রোজা বা ঈদের ঘোষণা করেন, তখন বলেন-‘দেশের অমুক স্থানে চাঁদ দেখা গেছে এবং তার ভিত্তিতে ঘোষনা করা হল, আগামীকাল থেকে রোজা শুরু।’ আবার তারা বলেন-‘দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি।’ এর অর্থ হলো, দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে তা গ্রহন করা হত।
আচ্ছা ধরুন দেশের সেই “কোথাও” নামক স্থানটি পঞ্চগড় অথবা ধরুন বেনাপোল। যদি পঞ্চগড় বা বেনাপোলে কেউ চাঁদ দেখতে পেত,তাহলেও কিন্তু চাঁদ দেখা কমিটি উক্ত অঞ্চলের মানুষের সাক্ষ্য গ্রহন করতেন এবং তারা তা করে থাকেন। তাহলে উক্ত অঞ্চল থেকে আরেকটু দূরে যিনি/যারা দাড়িয়ে চাঁদ দেখছেন অথাৎ পঞ্চগড়ের একটু ওপাশে চেংড়াবান্দা অথবা বেনাপোলের একটু ওপাশে পেট্রোপোলে দাড়িয়ে যারা চাঁদ দেখছেন, তাদের সাক্ষ্য চাঁদ দেখা কমিটি কেন গ্রহন করছেন না বা করেন না ? নাকি ওদের ঈমানে কোনো সমস্যা আছে ! তারা তো আমাদের সীমান্তের চেয়ে কয়েক হাত ওপাশে অবস্থান করছে, তাহলে এতকাছে থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয় না ??? বেনাপোল অথবা পঞ্চগড়ের সাথে ঢাকার দূরত্ব ৩০০-৩৫০কি:মি:। এতদূরের মানুষদের থেকে ঢাকার কমিটি চাঁদ দেখা সংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষ্য গ্রহন করছেন অথচ উক্ত এলাকা সমূহের থেকে কয়েক মিটার বাইরে দাড়ানো মানুষের সাক্ষ্য গ্রহন করছেন না। সমস্যা কোথায় !! মগজে, হাদীসে নাকি সীমান্তে ???
এক্ষেত্রে কোন হাদীসটি ফিট করা হবে, যখন একটি অবস্থানে আমার বামপাশে দাড়ানো কিছু লোকের সাক্ষ্য আমি গ্রহন করছি এবং একই দূরত্বে ডান পাশে দাড়ানো লোকের সাক্ষ্য আমি গ্রহন করছি না ? ডান পাশের লোকগুলো যদি ভারত অথবা মায়ানমার হয় এবং তারা যদি সহীহ মুসলিম হয় তাহলে তাদের সাক্ষ্য কেন গ্রহন করা হবে না ? চাঁদ বাবাজীকে দেখার জন্যে জাতীয়তাবাদী ওই সীমানা অনুসরনে আকাশকে আলাদা করার অনুমতি কে দিয়েছে ? রসূল(সাঃ)??? আমি কি অবারও পূর্বের হাদীসগুলি এখানে পেশ করব না ?
*** একবার সাহাবীগণ রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। তারা তারাবিহ নামাজ না পড়ার এবং পরদিন রোজা না রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন। এমতাবস্থায় ‘হাররা’ নামক এক স্থান থেকে জনৈক বেদুইন এসে সাক্ষ্য দেয় যে, সে চাঁদ দেখেছে। তখন তাকে রসূল সা: এর দরবারে নিয়ে আসা হয়। রসূল সা: তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল’ ? সে বলে, হ্যা আমি সাক্ষ্য দেই এবং আরও সাক্ষ্য দেই যে, আমি নতুন চাঁদ দেখেছি। অত:পর রসূল সা: হযরত বেলাল রা: কে নির্দেশ দিলেন,লোকদেরকে জানিয়ে দেওয়ার জন্যে যাতে তারা তারাবিহ নামাজ পড়ে এবং পরদিন রোজা রাখে। (সূত্র: আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩৩৩, ২৩৩৪, তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ,দারেমী)
*** একবার লোকেরা রমজানের শেষে শাওয়ালের চাঁদ দেখা নিয়ে মতভেদ করেন। তখন দুজন বেদুইন রসূল(সা এর কাছে হাজির হয়ে আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য প্রদান করেন যে,গত সন্ধ্যায় তারা শাওয়ালের চাঁদ দেখেছে। তখন রসূল সা: লোকদেরকে রোজা ভাঙ্গার নির্দেশ দেন। রাবী খালফ তার হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে,রসূল সা: আরও বলেন যে, লোকেরা যেন আগামীকাল ঈদগাহে আসে”। (সূত্র:আবু দাউদ ৩য় খন্ড/২৩৩৩,২৩৩৪)
*** হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,জনৈক বেদুঈন রসূল(সাঃ)এর নিকট এসে বলল-আমি রমজানের নতুন চাঁদ দেখেছি। তিঁনি (সঃ) জিজ্ঞেস করলেন-‘তুমি কি এ সাক্ষ্য দাও যে,আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ? তুমি কি আরও সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্দ(সাঃ) আল্লাহর রসূল ?’ সে বলল-হ্যা। অত:পর রসূল(সাঃ) বললেন-হে বেলাল ! লোকদের মধ্যে ঘোষণা কওে দাও, তারা যেন আগামী কাল থেকে রোজা রাখে
( সূত্র: তিরমিযী)
এবার আমরা নিকট ইতিহাতে প্রবেশ করবঃ- ১৯৭১ এর পূর্বে পশ্চিম পাকিস্থানে চাঁদ দেখা গেলে আমাদের দেশেও রোযা রাখা হতো কিংবা ঈদ উজ্জাপন করা হতো। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দুটি দেশ আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে রোযা রাখার তারিখ, ঈদ উজ্জাপন করার তারিখও আলাদা হয়ে গেল। তাহলে তখনকার দিনে একসাথে রোজা বা ঈদ পালন করার সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল ? যদি সঠিক হয় ,তবে এখনকারটা সঠিক নয় আর যদি সেটি ভুল হয়ে থাকে তবে ,এখনকারটা সঠিক। পূর্বে পাকিস্থান,ভারতের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে রোজা রাখা যেত,তাহলে আজ সে আকাশে চাঁদ দেখা গেলে এখানে রোজা/ঈদ পালন করা যায়না কেন ? এখানে চাঁদ কি রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত নয় ? যদি ভারতের আকাশে চাঁদ দেখার ব্যাপারটি আমাদের কাছে স্বীকৃত হয় তাহলে আমরা একসাথে রোজা পালন করতে পারি,তাহলে ভারতও তার পার্শ্ববতী দেশের আকাশের চাঁদকে স্বীকৃতি দিতে পারে। এভাবে একটি এলাকা যেহেতু আরেকটি এলাকার সাথে সম্পর্কযুক্ত ,তাহলে প্রত্যেকের একসাথে রোজা এবং ঈদ পালন করতে সমস্যা কোথায়(উল্লেখ্য: আরব বিশ্ব,মধ্য এশিয়া, এশিয়ার অনেকগুলি দেশ, ইউরোপ এবং আফ্রিকাও একসাথে রোজা, ঈদ পালন করে থাকে) ? এ বিষয়ে সময়ের পার্থক্য সর্বোচ্চ ১২ ঘন্টার পরিবর্তে আমাদের ক্ষেত্রে কেন ১/২ দিন দীর্ঘ হয়ে যায় ? হাদীস অনুযায়ী কিয়ামত হবে ১০ই মুহাররমে। প্রশ্ন হল-১০ই মুহাররম কোনটি অথবা কয়টি ? আমাদেরটি নাকি ওদেরটি ? আরব,আফ্রিকাতে যদি ১০ মুহাররম আগে হয় তাহলে ওদিকে আগে কিয়ামত হবে। আর যদি সেদিন অথবা তার পরের দিন আমরা আকাশে চাঁদ না দেখতে পাই তবে তার পরেরদিনকে অবশ্যই নিয়মানুযায়ী ১০ই মুহাররম হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সেক্ষেত্রে চাঁদবদন হায়াৎ আরো দুদিন বর্ধিত হবার সম্ভবনা ঠেকানো যাচ্ছেনা। আমরা তওবা পড়ে নি:শঙ্কচিত্তে অবশিষ্ট খাবারটুকু চিবোতে চিবোতে টেলিভিশন, ইন্টারনেটের কল্যানে লাইভ কিয়ামত প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাব, তা জাতীয়তাবাদী চাঁদের কল্যানে দম্ভের সাথে বলা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কারনে সীমানা নির্ধারন করে উম্মাহকে ভাগাভাগি কারা বা দেশ প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহর নির্দেশ নয় এবং সুন্নাহও নয়। এভাবে সীমানার উপর নির্ভর করে শরিয়াহর হুকুম জারি করাও সুন্নাহ নয়। উম্মাহ একটি দেহের মত। সারা বিশ্বের সহীহ মুসলিম একটি দেহ,একই তাদের ঈদ। আল্লাহ তায়ালা বলেন-  
আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (আল-কুরআন,৩:১০৩)
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে জাতীয়তাবাদী চাঁদের হাত থেকে রক্ষা করুন !এবং পৃথিবীর সব মুসলিমদের একই দিন থেকে রোযা রাখার এবং একই দিন ঈদ পালন করার তৌফিক দান করুন।
***সুত্র সুমুহ ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, এবং আবু-দাউদ এর হাদিস থেকে নেয়া।

চন্দ্র বিভ্রাট


কোনো এক বিধ্বস্ত ধূসর সন্ধ্যা। স্কটল্যান্ডের গগণে কমলাভ এক বিষাদময় চাঁদ উদিত হলো। চাঁদের সিকিভাগ যেন কোনো কারণে কেউ ছুরি দিয়ে কেটে নিয়েছে। বিবিসি চ্যানেল থেকে গম্ভীর কন্ঠে সংবাদপাঠক বলে চললো, “At last, the devastating day of Destruction or Doomsday has happened across the Middle East.”
ঠিক ২৪ ঘন্টা পরের কথা। এটিএন বাংলার সংবাদপাঠিকার মস্তকে ঘোমটার আবরণ দেখা গেল। নিশ্চয় আল্লহভীতি দেখানোর মতো কোনো কারণ ঘটেছে!জানা গেল কিছুক্ষণ পরেই। ভয়ার্ত কন্ঠে সে বললো,ইউরোপ,আমেরিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার সকল যায়গায় আজ সেই মহাপ্রলয় দেখা গিয়েছে। মানুষ তো দূরের কথা, সেই মহাদেশের অস্তিত্বই এখন খুজে পাওয়া যাচ্ছে না পৃথিবীর মানচিত্রে। এই উপমহাদেশের সকল জীবিত সত্ত্বাকে তাই সতর্ক হয়ে জীবনের শেষ প্রহর কাটানোর জন্য উপদেশ দেয়া হচ্ছে।”
আরো ২৪ ঘন্টা পরের ঘটনা। এবারে উপমহাদেশেও সেই মহাপ্রলয়ের আগমন ঘটলো। কিন্তু, সতর্ক করে দেবার মতো কোনো জীবন্ত সত্ত্বা তখন পৃথিবীর বুকে টিকে নেই।
পাঠক সমাজ হয়তো আমাকে পাগল ভাবছেন। কিংবা মনে করছেন আমি রসিকতা করছি। ব্যাপারটা মোটেই সেরকম কিছু নয়। ব্যাপারটি আপনারা চালাক হলে আমি কিবলতে চাচ্ছি আগেই বুঝতে পেরেছেন আশা করি।আর বুঝতে না পারলেও ভয় নেই। খুবই সহজ বিষয়। মিনিট দশেকের একাগ্রচিত্ত আপনাকে এই মহামূল্যবান বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন করে দিবে।
তার আগে কিছু সাহিত্যের কথা বলে নেই। কবিদের কবিতায় কিংবা গদ্যকারের গদ্যে আকাশের গোলাকার যে বস্তুটি নিয়ে সবচেয়ে বেশী মাতামাতি লক্ষ্য করা যায়; যে বস্তুটি হাতে পাবার লোভ দেখিয়ে ছোট্ট শিশুকে মা ভাত খাওয়ান; যে বস্তুটি বৈধ এবং অবৈধ ভালবাসা উভয় ক্ষেত্রেই উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেটা হচ্ছে চাঁদ- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই বস্তুটি কেবল সাহিত্যিকদের সাহিত্যরসের রসদই নয়; এটা বিভিন্ন ব্লকের আলিমদের একটি বিতর্কের মাধ্যমও বটে। চন্দ্র দেখে মাস শুরু করার যে বিষয়টিতে রাসূল(স) এর সময়ে কোনো ধানাই-পানাই ছিলো না; যে বস্তুটির ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্লাসিকাল স্কলাররা একমত; সে বিষয়ে বর্তমান সময়ে মতানৈক্য মহামারী আকার ধারণ করেছে। এবং আরো মজার বিষয় হচ্ছে, চাঁদ দেখে রোজা রাখার বা ঈদ করার বিভিন্ন কায়দা কানুন দিয়ে আমরা কে কোন দলের বা কোন ব্লকের সেটার হিসেব কষতে থাকি;যদিও সেটা ইসলামের জন্য ক্ষতিকর,তা সত্ত্বেও।
এবারে কিছু বাস্তব অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা যাক।
প্রথমত, যদি কিয়ামত ১০ই মহররম,শুক্রবার (সেটার দলীল আমার কাছে নেই) হয়ে থাকে তবে কি তা সৌদি আরবের ১০ তারিখ? নাকি ইউরোপের? না বাংলাদেশের? এ কথাটা যদি সত্য হয়ে থাকে যে, সেই নির্দিষ্ট দিনেই কিয়ামত হবে; তবে এই নোটের প্রথম তিন প্যারা কল্পনা নয়; বাস্তব সত্য মাত্র।
দ্বিতীয়ত,আমরা সকলেই জানি হজ্জ্বের সময় জিলহজ্জ্ব মাসের ৯ তারিখ আরাফাতের ময়দান ভ্রমণ করতে হয়।এই আরাফার দিনে রোজা রাখা সুন্নত। তো ব্যাপারটা হচ্ছে, হাজীরা তো সৌদি আরবের ০৯ তারিখ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন;কিন্তু আমাদের দেশের তো তখন জিলহজ্জ্ব মাসের ০৮ তারিখ কিংবা ০৭ তারিখ থাকে, ০৯ তারিখ না। তাহলে আমরা কেন ০৭ কিংবা ০৮ তারিখে রোজা রাখবো ?
তৃতীয়ত, আরবী বছরে একটি রাত আছে, যে রাতে ইবাদত করা হাজার বছর ইবাদতের চেয়েও উত্তম। যদিও নির্দিষ্ট করে বলা নেই কবে এই মহিমান্বিত রাত্রি বা লাইলাতুল ক্কদর,তবুও অনেক আলিম,স্কলার আর মুহাদ্দীসদের মতে এটি রমজানের ২৭ তম রজনীতে হবার সম্ভাবনা বেশি। তাই যারা বেশী পাপ কাজ করেছেন, তারা সৌদি আরব, ইউরোপ আর বাংলাদেশ ভ্রমণ করলে টানা তিন রাত এই অসামান্য ফায়দা লাভের সুযোগ পেয়ে যাবে।
চতুর্থত, ধরুণ কোনো ব্যাক্তি রমজানের শুরুতে বাংলাদেশে ছিলো। দূর্ভাগ্যজনকভাবে সেদিন এখানের চাঁদ দেখা যায়নি।তাই বাধ্য হয়েই রোজা শুরু করলো পরের দিন।তো সেই লোকের ধরুণ কাজের খোজে সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর সুযোগ পেল মধ্য রমজানে। এখন সেখানে গিয়ে সে দেখলো, রোজা দুই দিন আগে শুরু হয়েছে(কারণ চাঁদ উঠতে দেখা না গেলেও তারা এস্ট্রোনোমিকাল ক্যাল্কুলেশন করে নাকি ঠিক করেছে যে চাঁদ কবে দেখা যেতে পারে। আর এভাবেই নাকি তারা আগের দিনেই রোজা শুরু করে দিয়েছে)। তা সৌদি আরবে ২৯ রোজার পরের দিন ঈদ হলো।এখন সেই হতভাগা ব্যাক্তি কি ২৭ রোজা রেখেই ঈদ করবে? (এ কেমন কথা!!) পক্ষান্তরে, সৌদি থেকে রোজার শুরুতে কেউ বাংলাদেশে এসে রমজানের মধ্যভাগ পেলে তার ঈদ হবে তার রাখা ৩১ কিংবা ৩২ রোজার পর!! এটাও কেমন জানি দৃষ্টিকটু লাগছে!
পঞ্চমত, ধরুণ এই রমজানে কোনো কারণে ভারত আমাদের সীমান্তের কোনো জেলা দখল করে সেটাকে তার কোনো অঙ্গরাজ্যের দ্বারস্থ করে দিলো। এখন সে জেলার লোকেরা যদি ওই রাজ্যের একদিন পরে রোজা শুরু করে আর ঈদ হয় ২৯ রোজার পরে,তাহলে কি এই জেলার লোকেরা এখন ২৮ রোজায় ঈদ করবে(কারণ চাঁদ তো দেখা গেছে)??
এবারে আসা যাক চাঁদ দেকে মাস শুরু করা নিয়ে কিছু সাধারণ বিভ্রাটের কথায়। কোরআনে বলা হয়েছে, “Whoever witnesses the crescent of the month, he must fast the month." [Sura Baqara-2:185]
অর্থাৎ, “তোমরা যারা রমজান মাসের চাঁদ দেখ,তারা রোজা রাখ।”
এখানে কিন্তু, যারা চাঁদ দেখেছে তাদেরকে রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। তো প্রশ্ন হলো, আপনি জীবনে কয়বার চাঁদ দেখে রোজা শুরু বা শেষ করেছেন? যদি আপনি স্বচক্ষে চাঁদ দেখে না থাকেন,তাহলে কি রোজা হবে না? আমি তো জীবনের সব রমজানের বা ঈদের চাঁদ দেখে রোজা বা ঈদ পালন করিনি। চাঁদ দেখা কমিটির কারা কারা আছে,ওদের কথা শুনেই শুরু করে দিলাম।
তার মানে শাব্দিক অর্থে এটা বলা হয়নি,এটার Implicit কোনো meaning আছে।কি সেই অর্থ? একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন যে,এখানে চাঁদ দেখে নিশ্চিত হবার কথা বলা হয়েছে, সেটা একজনি দেখুক,অনেকেই দেখুক কি অধিকাংশই দেখুক। শর্ত হচ্ছে, যারা চাঁদ দেখবে তাদেরকে বিশ্বাসযোগ্য,সত্যবাদী মুসলিম হতে হবে।সে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মুসলিমই হোক না কেন, বিশ্বাসী হলে তার কথার সত্যতা গ্রহণ করতে হবে।
এখন আরেকটা প্রশ্ন থেকে যায়,তা হচ্ছে এটার কোনো সীমানা আছে নাকি। অর্থাৎ,ভৌগোলিক সীমানা এখানে কোনো নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে নাকি। গতকাল কোন এক সাইটে দেখলাম বেশ জোর গলায় বলছে, যে কোনো দেশের আলিমরা যেটা মেনে নেন সেটাই আমরা মেনে নিতে বাধ্য থাকবো।কিন্তু, আমার প্রশ্ন হচ্ছে,সব দেশের যেসব আলিমরা সরকারের দ্বারস্থ হোন, তারা যতটা না জ্ঞানের কারণে পদবী পান, তার চেয়ে বেশী পান বিলকুল হারাম বস্তু বা কাজকে হালাল করে কিংবা ইসলামকে সেকুলারাইজ করে। ব্যাপারটা বুঝার জন্য খুব বেশী জ্ঞানী হওয়ার দরকার নেই যে বর্তমান যুগে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতির আসনে সে আলিম বসতে পারবেন না যিনি রাজতন্ত্রকে হারাম বলেন। একইভাবে বাংলাদেশের বায়তুল মোকাররমের খতীব হওয়ার প্রধান যোগ্যতা থাকতে হবে গণতন্ত্রের মত স্পষ্ট শিরককেও বৈধ ঘোষণা করা। একইভাবে শেয়ার ব্যবসা, সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা কিংবা সেকুলার আদালতকে যে যতটা গুছিয়ে, যতটা সুচারুভাবে সাধারণ মানুষের ব্রেইনওয়াশ করে হালাল ঘোষণা করতে পারবে, তার উচ্চাসন ততটাই নিশ্চিত। আর এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার আলিমদেরকে পদবী তো দূরের কথা, অস্তিত্বের জন্যই পুলিশ-র‍্যাবের ভয়ে টতস্থ থাকতে হয়।সে গল্পে পরে আসছি।
এখন অনেকে প্রশ্ন করে বসতে পারেন, সব দেশে তো আমরা একই সময়ে সেহরী-ইফতার করি না কিংবা সালাত আদায় করি না। কথা সত্য। তবে এটার সাথে মাস শুরু করার যে বিন্দুমাত্র যোগসাজশ নেই, তা যে কোনো মানুষের কাছেই বোধগম্য। সূর্য হচ্ছে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এর সময় নির্ধারণ(ফজরের ওয়াক্ত সুবহী সাদিক থেকে এশা শুরুর লক্ষণ সূর্যের লাল আভা না থাকা, সবগুলোই সূর্যের অবস্থানের উপর নির্ভরশীল)। পক্ষান্তরে, চাঁদ দেখার কারণ শুধু মাস শুরু কিংবা শেষ করা।সোজাসাপ্টা কথায় নতুন চাঁদের দ্বারা মাস শুরু হয়, আর সূর্যের বিভিন্ন অবস্থান দিয়ে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ হয়। যেমন সেহরী আর ইফতারের সময় ঠিক করে দিয়ে আল্লাহ বলেন- - "And eat and drink until the white thread of dawn appears to you distinct from its black thread; Then complete your fast until the night appears" [TMQ 2:187]” 
উপরের সব কিছুই আসলে অর্থহীন হবে যতক্ষণ না আমরা আমদের যে কোনো কাজকে শরীয়াহ দিয়ে প্রমাণ করতে পারি।কারণ, যে কোনো প্রকার অনৈক্য দেখা গেলে আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে ফিরে যাবার কথা বলা হয়েছে এভাবে-
“If you differ in anything among yourselves, refer it to Allah and His Messenger, if you believe in Allah and in the Last Day. That is better and more suitable for final determination.”[Sura Nisa-04:59]
এখন দেখা যাক, চাঁদ দেখা নিয়ে শরীয়াহ কি বলে। আগের দুইটি আয়াত তো দেখলামই। এবারে কিছু হাদীস দেখা যাক
Bukhari and Muslim reported on the authority of Abdullah Ibnu Omar (may Allah be pleased with them) that the Messenger of Allah (saw) mentioned Ramadhan and said:
"Do not fast till you see the new moon, and do not break fast till you see it; but if the weather is cloudy complete it (thirty days)."
Muslim also reported on the authority of Abdullah Ibnu Omar that the Messenger of Allah (saw) said:
“The month of Ramadhan may consist of twenty-nine days; so when you see the new moon observe fast and when you see (the new moon again at the commencement of the month of Shawwal) then break it, and if the sky is cloudy for you, then calculate it (and complete thirty days)." 
এখানে বলা হয়েছে, নতুন চাঁদ(রমজানের) দেখা ব্যতীত রোজা শুরু না করা এবং নতুন চাঁদ(শাওয়ালের) দেখার আগে রোজা ভঙ্গ না করা। এখানে ["Do not fast till you see it and do not break fast till you see it." - "Do fast when you it is sighted and break fast when it is sighted] বলে কোনো অঞ্চলের মুসলিমদের মধ্যে এই ব্যাপারটি সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়নি।আর এই হাদীসে যে ধাতু সুম্মু’ ব্যবহার করা হয়েছে তার অর্থ ‘রোজা রাখ’ যা আম (সাধারণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, বিশ্বের সকল মুসলিমদেরকে Address করে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সৌদিদেরকে বলা হয়নি। আবার ‘রুয়ায়াতাহ’ শব্দটি এখানে ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ ‘দেখা গেলে’। এখানেও কোনো স্থান,কাল ইত্যাদি দিয়ে এটা সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়নি। অর্থাৎ,এখানেও সকল মুসলিমদের কথা বলা হচ্ছে।
এখন আমরা যে প্রশ্নবাণে জর্জরিত তা হচ্ছে, রাসূল(স) কি তার জীবনে কোনোসময় মদীনায় চাঁদ দেখা না গেলেও অন্য অঞ্চলের মুসলিমদের কথা শুনে রোজা শুরু করেছেন কিংবা ঈদ করেছেন? উত্তরটা নিচেই দেয়া আছে:
  It is also reported in a Saheeh hadith: Abu ‘Umayr ibn Anas reported from his paternal uncles
among the Ansaar who said:
“It was cloudy and we could not see the new moon of Shawwaal, so we started the day fasting, then a caravan came at the end of the day and told the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) that they had seen the new moon of Shawwaal the day before, so he told the people to stop fasting, and they went out to pray the Eid prayer the next day.”
[Reported by the five. It is sahih; al-Irwaa’, 3/102 Abu Dawud 1153] 
অর্থাৎ, রাসূল(স) সাহাবীদেরকে রোজা রাখা বন্ধ করে ঈদ করতে বললন। অপর বর্ণনায় এসেছে, তার আগে তিনি যারা সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন তারা মুসলিম কি না সেটা যাচাই করে তাদেরকে কালিমা শাহাদাত পাঠ করিয়ে সাক্ষ্য নিয়ে চাঁদ দেখা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন।
যেখানে স্বয়ং রাসূল(স)রোজা ভঙ্গ করেছেন (অন্য যায়গার মুসলিমরা শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখেছে এটা নিশ্চিত হবার পরে), সেখানে আমাদের এটা গ্রহণ করতে এতো দ্বিধাবোধ কেন? কেন আমরা সকল মুসলিম একসাথে ঈদ করার কথা আসলে রাসূল(স) এর জীবনের ঘটনা না দেখে কোন দেশের গ্র্যান্ড মুফতী কি বলেছে সেটা দেখি? ইমাম আবু হানিফা,ইবনে তাইমিয়্যা এবং আরো অনেক ক্লাসিকাল স্কলাররা সকল মুসলিম একই সাথে ঈদ করার স্বপক্ষে শরীয়াহ প্রমাণ দেখিয়েছেন। তবে কি আমাদের কাছে বর্তমান যুগের মুফতী সাহেবদের মতামত রাসূল(স) এর জীবনের উদাহরণ থেকে বেশী দামী হয়ে গেল? যদি তাই হয়, তবে এতক্ষণ যা বললাম তার সবই অর্থহীন।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে জোতির্বিদ্যা বা Astronomy ব্যবহার করে মাস শুরু করা। এখানে Astronomy  ব্যবহার করে করাটা ঠিক হতো, যদি তা শরীয়াহ এর হুকুমের সাথে যেত। কিন্তু,রুয়ায়াতাহ’ শব্দটি কেবল মানুষের চোখে একটি বস্তু পর্যবেক্ষণ এর কথা বলে।এখানে যদি বিশ্বের কোনো প্রান্তে বৈরী পরিবেশের কারণে চাঁদ দেখা না যায়, তবুও আমাদেরকে ৩০ রোজা রাখতে হবে। আর যে চাঁদ সারা বিশ্বের সকল প্রান্তে একবার না একবার উঁকি দেয়ই, সে চাঁদ নিশ্চয় সব এলাকায় মেঘের জন্য মানুষের দেখা পাবে না এমনটা ঘটবে না। সৌদি আরবে গতবার এই কারণে ঈদুল আজহা একদিন আগে হয়েছিল।
আমাদের করণীয়-
* প্রথমত, আমাদের সজাগ থাকতে হবে যে চাঁদ কোথাও দেখা যায় কিনা। এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে এই নিয়ে প্রতি ১০ মিনিট পর পর আপডেট দেয়া হয়। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আমাদের সজাগ দৃষ্টি। আমরা (মনের সন্তুষ্টির জন্য) যদি বার্সা-রিয়াল, ভারত-পাকিস্তানের খেলা দেখার জন্য রাত জাগতে পারি, তবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য যে রোজা রাখবো তা নিশ্চিত হয়ে ঠিকভাবে রাখার জন্য কি রাত জাগতে পারবো না।  আর সবসময় নিশ্চয় এমনটাই হবে না যে, পসচিমদের দেশেই চাঁদ আগে দেখা যাবে যার জন্য আমাদের না ঘুমিয়ে থাকতে হবে।
*চাঁদ দেখার বিভিন্ন অঞ্চলের সময়ের সর্বোচ্চ পার্থক্য ১০ ঘন্টা।অর্থাৎ, সবচেয়ে পশ্চিমের দেশে সেটা দেখা গেলেও সবচেয়ে পূর্বের দেশে সুবহী সাদিক এর সময় গড়াবে মাত্র। আর আল্লাহ সঠিক পন্থায় আমাদের চেষ্টাটাই লক্ষ্য করবেন। মুসলিমরা একসাথে থাকার সময়, অর্থাৎ ইসলামিক খিলাফাহ এর সময়, যে কোনো অঞ্চলে চাঁদ দেখা গেলে ঘোড়া ছুটিয়ে কিংবা কোনো বিশেষ বাতি জ্বালিয়ে বা শব্দ শুনিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেয়া হতো যে নতুন মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। এইসকল মতানৈক্যের প্রধান কারণ মুসলিমরা আজ তাদের একসাথে থাকার গ্রাউন্ড হারিয়েছে, হারিয়েছে তাদের ভিশন, হারিয়েছে পৃথিবী নেতৃত্ব দেবার রাজনৈতিক ও সামরিক ঐক্য। আর এর সবই হয়েছে প্রায় ১৩০০ বছরের বিচিন্ন সময়ে জয় করা একটা বিশাল ঐক্যবদ্ধ জাতিকে যখন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ৫৮টি ক্ষুদ্র,অস্থিতিশীল রাষ্ট্রের প্রয়াশ নেয় ইসলামের শত্রুরা। আজ সময় এসেছে আবার রাসূল(স) এর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পৃথিবী নেতৃত্ব দেবার।
*আমাদের এলাকা-মহল্লার ইমামদের সাথে এই নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন। তারা অনেকেই বিষয়টা জানেন, তবে চাকরী, মসজিদ কমিটি আর পুলিশ-র‍্যাবের ভয়ে অনেক কিছুই বলতে পারেন না। যেই দেশে ইমামের খুতবা সরকার ঠিক করে দেয়, সেই খুতবা না পড়লে আবার ইমামকে অ্যারেষ্ট করা হয়,যেই দেশে ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘ব্যালী ড্যান্স’ দেখানো হয় আর যে দেশের ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশী ভ্রমণ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রদূত(একজন খৃষ্টান) সে দেশে নিশ্চই সেসব আলিমরাই সুখে থাকবেন যারা ইসলামের আসল সত্য লুকিয়ে ইসলামের পাশ্চাত্য ভার্সন বের করবেন।আর আমরা সাধারণ,শিক্ষিত জনতা এই বিষয়ে কথা বললে সমাজের লোকেদের এই বিষয়ে ভুল ভাঙ্গবে।
*‘আজ বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে
আর
আজ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে।’
কথা দুইটির পার্থক্য অনেক। কাফিররা আমাদের বলে, তোমরা তো একইদিনে তোমাদের প্রধান উৎসবই করতে পারো না, তোমাদের আবার Unity কি? তার উপর বাংলাদেশের ঈদ বলে আমাদেরকে মুসলিম পরিচয় ভুলিয়ে অঞ্চলভিত্তিক জাতীগত পরিচয়কে বড় করে দেখানো হচ্ছে।
তাই একই দিনে ঈদ করার কথা সুনলে আপনাকে কেউ সহজেই মেনে নিবে, একথা ভুলেও ভাববেন না। তাতে কি? আল্লাহ তো মেনে নিবেন। আর তার সন্তুষ্টিই তো আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

পোষ্টটি নেওয়া হয়েছেঃ এখান থেকে।
 

আপনাদের প্রশ্ন/মতামত/যুক্তি/দলিল কমেন্টে জানাতে পারেন।